1. admin@rajshahitribune24.com : admin :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা তানোরে আইনশৃঙ্খলাসহ ছয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিজিবি অর্কিড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এরফান আলীর মৃত্যু তারেক রহমানের আগমন ঘিরে তানোরে মিজানের নেতৃত্বে র‍্যালি তাজকিয়াতুল উম্মাহ মহিলা মাদ্রাসায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত তানোরে জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় যৌথ সংলাপ অনুষ্ঠিত তানোরে অর্কিড স্কুলে হক ফাউন্ডেশনের বই বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে : রাসিক প্রশাসক তানোরে ৫৮ পূজামণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিলেন বিএনপি নেতা মিজান

বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবদেক,রাজশাহী: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরের চাইপাড়া হিন্দুপাড়ায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বিঘা আয়তনের গাওড়া বিলে কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর বিলটি মাছ চাষের উপযোগী করতে উদ্যোগ নিয়েছেন ইজারাদার ওয়াহিদ সরকার। তাঁর উদ্যোগে বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শ্রমিক বিলের বিভিন্ন অংশে কচুরিপানা অপসারণের কাজ করছেন। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিলটিকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ইজারা না হওয়ায় বিলটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। একপর্যায়ে পুরো বিল কচুরিপানায় ছেয়ে যায়। পরে জমির মালিকদের সম্মতি ও ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিলটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে শ্রমিকেরা বিলের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কারের কাজ করছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হলে সেখানে মাছ চাষ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জমির মালিকদের দেওয়া নথিতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গাওড়া বিলে অবস্থিত জমি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের সম্মতির তথ্য রয়েছে। নথি অনুযায়ী, প্রতি বছর বিঘাপ্রতি ৪০ হাজার টাকা হিসাবে ১৪৩২ থেকে ১৪৪০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ইজারার হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইজারার মেয়াদ, তৃতীয় বছরের অর্থ বণ্টন এবং জমির মালিকদের টাকা গ্রহণ ও স্বাক্ষরের বিবরণও রয়েছে।

নথিতে বিলের পাড় বাঁধাই, বিলের ধার সংরক্ষণ ও ভাঙন রোধের বিষয়ে শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পাড় বাঁধাইয়ের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেসব জমি ভেঙে বিলের মধ্যে নেমে গেছে, সেসব জমির পরিমাণ অনুযায়ী জমির মালিকদের আনুপাতিক হারে টাকা দেওয়ার শর্তও রয়েছে।

এ-সংক্রান্ত আর্থিক নথিতে গোপালপুরের কালাম মৃধার নামে ১৯৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমির বিপরীতে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৪৮ টাকা গ্রহণের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। নথিতে ২৫ মে ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরের কথাও পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া চাইপাড়া, গোপালপুর ও সাদোপাড়া এলাকার একাধিক জমির মালিকের নাম, জমির পরিমাণ এবং প্রাপ্য অর্থের হিসাব নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জমির মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইজারার অর্থ বণ্টন ও টাকা গ্রহণের স্বাক্ষরসংবলিত নথিও সংরক্ষিত রয়েছে।

ইজারাদার ওয়াহিদ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে তাঁরা প্রতি একর ৪০ হাজার টাকা দরে বিলটি ইজারা নেন। বিল পরিষ্কারের কাজ শেষ হলে সেখানে মাছ চাষ শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বলে তাঁর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও তাঁরা বিলটি ব্যবহারের উপযোগী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের কার্যক্রমের কারণে কারও কোনো ক্ষতি হলে এবং সেই ক্ষতির দায় তাঁদের ওপর বর্তালে তা পূরণ করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বিঘা আয়তনের গাওড়া বিলটি পরিষ্কার করে মাছ চাষ শুরু করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন শ্রমিকের অংশগ্রহণে চলমান কচুরিপানা অপসারণের কাজ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

পরবর্তী সময়ে মাছ চাষ শুরু হলে মাছের উৎপাদন, পরিচর্যা, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও মানুষের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি জমির মালিকদের ইজারার অর্থ প্রাপ্তি এবং বিলের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা বিলটি পরিষ্কার করে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহারের এ উদ্যোগ ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিলের পাড় সংরক্ষণ, ভাঙন রোধ এবং মাছ চাষের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে গাওড়া বিলটি আবারও এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নির্ভর করবে বিলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জমির মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত মাছ চাষ বাস্তবায়নের ওপর।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,

বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ

  ©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪

Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!