1. admin@rajshahitribune24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নিরাপদ রাজশাহী গড়তে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর, বসবাসযোগ্য এবং নিরাপদ মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। শুক্রবার ৯ অক্টোবর বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর সিটি হাট চত্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাসিকের তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচটি পুনঃস্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

রাজশাহীর উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চলমান কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নগরবাসী ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র দেখতে পাবেন।বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা হবে। পানির লাইন বসানোর কারণে যেসব রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। এছাড়া বন্ধ থাকা সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলো পুনরায় চালু করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে সোনাদীঘি মসজিদের কাজ ও বাঁধের উন্নয়ন অন্যতম। নগরীকে আরও সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন করতে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগান্তকারী উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া শিশুপার্ক সংলগ্ন একটি রাস্তার পুনরুদ্বোধন করা হয়েছে, যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া, জামিরা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘রাজশাহী বাইপাস’ নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি। ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন লেনের এই অত্যাধুনিক বাইপাস সড়কে ডিভাইডার, দুই পাশে বৃক্ষরোপণ, ড্রেন এবং ফুটপাত থাকবে। পাশাপাশি বিমানবন্দর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত ১৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি বিশ্বমানের সড়ক নির্মাণ করা হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পদ্মা নদীর পাড় দিয়ে ‘রিভার ড্রাইভ’ এবং বারনই নদীর পাশ দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে।

ভূমিমন্ত্রী মিনু আরোও “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন এবং সবুজ রাজশাহী গড়ে তোলা।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক এবং স্থানীয় নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন তার বক্তব্যে বলেন সকাল হলে সূর্য ওঠে এবং সন্ধ্যায় অস্তমিত হয় এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। কিন্তু এই নিয়মের যারা ব্যত্যয় ঘটিয়েছিল, তাদের অপসারণ করতে দেশের মানুষের দীর্ঘ ১৭ বছর সময় লেগেছে।

বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে এমপি মিলন বলেন, তারা স্বপ্ন দেখাত এবং তা হাইজ্যাক করত। সেই হাইজ্যাক ও অবাস্তব স্বপ্ন দেখার দিন শেষ হয়েছে এবং দেশ এখন বাস্তবতায় ফিরে এসেছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা ও আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, “প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা পূর্বে এমন কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত ছিলেন, তাদের উদ্দেশে এমপি বলেন, যেসব স্থানে ইতিহাসের রাখাল রাজা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বিএনপির বর্ষীয়ান নেতৃবৃন্দের নামের স্মৃতিফলক বা নামফলকগুলো সরানো হয়েছিল, সেগুলো স্বউদ্যোগে খুঁজে বের করুন। না হলে বিএনপি নেতৃত্বে আমাদের দলের নেতাকর্মীরাই তা খুঁজে বের করবে।”

কোথায়, কখন এবং কীভাবে এই ফলকগুলো অপসারণ করা হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে নিজ দায়িত্বে সেগুলো উদ্ধার করে পূর্বের স্থানে পুনর্স্থাপনের দাবি জানান।

এর আগে ফলক উন্মোচন শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরোও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ।

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের,নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদূর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা, সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, শফিকুল ইসলাম শাফিক, মুক্তার হোসেন ও জয়নাল আবেদীন শিবলী, শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার, সদস্য সচিব নাসিম খান, বোয়ালিয়া পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওলিদ আবির, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী মহানগরীর ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়াস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাটোর মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পটির আওতায় স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলকগুলো ঘোষপাড়া মোড়, মেডিকেল বন্ধগেট মোড় ও সিটি হাট-উত্তর নওদাপাড়া মোড়ে অবস্থিত ছিল।

এ ছাড়া, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণার্থে নর্দমা নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মোঃ সাইফুর রহমান। উপরোক্ত দুইটি প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।অন্যদিকে, ২০০৪ সালের ১৫ অক্টোবর গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহী মহানগরীর মোড় প্রশস্তকরণ ও শহর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।

উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলক মুছে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ফলকগুলো পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর ঐতিহাসিক স্মৃতি পুনরুদ্ধার করা হলো।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,

বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ

  ©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪

Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!