
নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : রাজশাহীর তানোরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ আলীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও তাঁর স্বজনেরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে তানোর থানা মোড়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা পলাশ আলীর ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কর্মসূচিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির তানোর উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার বাদশা, এনসিপির রাজশাহী জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মুরশেদ আলী ও আবু রায়হান, জাতীয় যুবশক্তির রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক খালিদ হাসান মিলু এবং রাজশাহী মহানগর জাতীয় যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক শুয়াইব আহমেদ বক্তব্য দেন। পলাশ আলীর স্বজনেরাও এতে অংশ নেন।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে তানোরের কৃষ্ণপুর মোড় এলাকায় পলাশ আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা আব্দুল লতিব বাদী হয়ে শনিবার তানোর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, পলাশ আলী আগে ফেমাস সমাজকল্যাণ সংস্থায় মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। চাকরি-সংক্রান্ত বিষয় ও ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি থানায় অভিযোগ করেছিলেন। এর পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে কৃষ্ণপুরের পুরোনো কাউন্সিল মোড় এলাকায় কয়েকজন তাঁর পথরোধ করে হামলা করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও লোহার শাবল ব্যবহার এবং তাঁকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।
হামলার পর পলাশকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলায় আরাফাতুল আলম, আফজাল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, আফসার আলী, আনোয়ার হোসেন, হাবিব আলী ও আপেল মাহমুদকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এর আগে জানিয়েছিলেন, এনজিওর অংশীদারত্ব ও লেনদেন নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। মামলা হওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।#