
নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাজশাহীর সাংবাদিকেরা। তাঁরা বলেছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাশয় রক্ষা ও কৃষিতে পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিবেশবাদী সাংবাদিকদের ওরিয়েন্টেশন সভায় এসব কথা বলা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নেট্জ বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় ডাসকো ফাউন্ডেশনের এনগেজ (ENGAGE) প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক সহ ২০ জন সাংবাদিক ও ৫ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটর অংশ নেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। এনগেজ প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার তামান্না জাবিনের সঞ্চালনায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী রুহুল আমিন।
সভায় রাজশাহী অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ও মনুষ্যসৃষ্ট উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি এবং এর সমাধানের উপায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়। এতে সুপেয় পানির সংকট, কৃষিতে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার, খাস পুকুর ভরাট, ইটভাটার দূষণ এবং প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্ন সমস্যা উঠে আসে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকেরা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম বড় সংকট এখন পানি। বিশেষ করে রাজশাহীর তানোরসহ বরেন্দ্র এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ছে। তানোরের পানি সংকট নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও কৃষকদের সেচ নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এ অবস্থায় ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে উপরস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর ও জলাশয় রক্ষা, নদী-খাল পুনঃখনন এবং পানি সাশ্রয়ী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার’ বা জলবায়ু-সহনশীল কৃষি পদ্ধতি সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
সভায় আরও বলা হয়, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন রোধ করতে হবে। কৃষিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ক্ষতি শুধু প্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলে না; এর সঙ্গে মানুষের নিরাপদ পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও বাসযোগ্য পরিবেশের অধিকারও জড়িত। তাই পরিবেশগত সমস্যাগুলোকে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।
প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের খাদ্যভান্ডার হলেও পানির সংকট দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ৪৭টি ইউনিয়নকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মোট ১৫৩টি ইউনিয়ন বিভিন্ন মাত্রায় পানি সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “যথাযথ লেখনীর মাধ্যমে এসব সমস্যা তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের বিকল্প কী হতে পারে, তা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে হবে।”
সভায় সাংবাদিকেরা পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য-উপাত্তের সহজপ্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।#
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ
©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪