
সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে এবং টেলিভিশনে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কাশিমবাজার-বায়া সড়ক সংস্কার প্রকল্প সম্পর্কে বিভিন্ন শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদগুলোতে প্রকল্পের কাজের মান, নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ তথ্যনির্ভর, একপাক্ষিক এবং বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। এসব সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্পকে অযথা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে বাস্তবায়নাধীন কাশিমবাজার-বায়া সড়ক সংস্কার প্রকল্পের কাজ সরকারি অনুমোদিত নকশা, প্রকৌশল মানদণ্ড, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন এবং প্রচলিত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না করে কোনো ধাপ সম্পন্ন করার সুযোগ নেই।
দুঃখজনকভাবে কিছু সংবাদে এমনভাবে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপ এলজিইডির নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, কাজের মান বজায় রাখা এবং জনগণের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তা তথ্যভিত্তিক নয়। প্রকল্পে ব্যবহৃত উপকরণ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রকৌশলগত মূল্যায়ন সম্পন্ন করেই পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে। ফলে নিম্নমানের কাজ বা উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এটিও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, চলমান বর্ষা মৌসুম, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমিয়ে কাজ পরিচালনার স্বার্থে অনেক সময় নির্মাণকাজের গতি পরিকল্পনা অনুযায়ী সমন্বয় করতে হয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করাই মুখ্য বিষয়। দ্রুততার চেয়ে টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, কাশিমবাজার-বায়া সড়ক সংস্কার প্রকল্পে সর্বোচ্চ ভালো কাজ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠান নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। কাজের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। প্রকল্প সম্পন্ন হলে এলাকাবাসী একটি নিরাপদ, আধুনিক, টেকসই ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা পাবেন বলে আমরা আশাবাদী।
একইসঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু সংবাদে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ না করেই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। একটি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে যাচাই-বাছাই ছাড়া নেতিবাচক প্রচারণা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
অতএব, কাশিমবাজার-বায়া সড়ক সংস্কার প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত ও একপাক্ষিক সংবাদের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে জনগণকে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকল্পের চূড়ান্ত ফলাফল মূল্যায়নের অনুরোধ করছি।
প্রতিবাদকারী
মেসার্স সৈকত এন্টারপ্রাইজ
কার্যনির্বাহী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
কাশিমবাজার-বায়া সড়ক সংস্কার প্রকল্প, রাজশাহী।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ
©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪