
নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ভূমি সংক্রান্ত শুনানিকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাকের ওপর মারমুখি আচরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন— তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের অমৃতপুর গ্রামের ওহাব আলীর স্ত্রী জমিলা (৩৫), বাঁধাইড় ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে হাফিজুর রহমান (৪৫) এবং একই গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে আব্দুল আওয়াল (২৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে তানোর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ভূমি সংক্রান্ত একটি শুনানি চলাকালে অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি অন্যায় আবদার নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা এসিল্যান্ডের টেবিলে চাপড়াতে থাকেন এবং তাঁর প্রতি মারমুখি আচরণ করেন। এতে সরকারি কাজে মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটে।
এ সময় অফিসে উপস্থিত উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক, ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী এনামুল হক, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইমরুল কাশেম, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সার্টিফিকেট পেশকার সাজ্জাদ, প্রসেস সার্ভার আব্দুল হান্নান এবং সেবাপ্রার্থী মুনসুর তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁদের দিকেও মারমুখি আচরণ করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে তানোর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ১৭। এতে দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৫৩ ও ৩৩২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, “সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মামলার বাদি উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল মালেক বলেন, “শুনানিকালে তারা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং আমাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম।”
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”#
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ
©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪