1. admin@rajshahitribune24.com : admin :
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

বিলকুমারী ও বিলজোয়ানার প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় করণীয় শীর্ষক সংলাপ

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৯৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : দেশের প্রথম জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিলকুমারি ও বিলজোয়ানা থেকে ইতোমধ্যে ২ প্রজাতির পাখি, ৫ প্রজাতির দেশীয় মাছ এবং ৫ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যা স্থানীয় জলজ বাস্তুতন্ত্র ও প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য গভীর সংকেত বহন করছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় তানোর উপজেলা প্রশাসনিক হলরুমে “বিলকুমারী ও বিলজোয়ানার প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় করণীয়” শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তানোর উপজেলার গোকুল-মথুরা বিলকুমারী মৎস্যজীবী সমবায় সংগঠন, গ্রিন কোয়ালিশন এবং বেসরকারি উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এর যৌথ আয়োজনে এ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক নাঈমা খান।
গ্রিন কোয়ালিশন তানোর উপজেলার সভাপতি ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ। বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এর কর্মসূচি কর্মকর্তা অমৃত সরকারের সঞ্চালনায় আয়োজিত সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা তুলে ধরেন, গোকুল-মথুরা বিলকুমারী মৎস্যজীবী সমবায় সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, কৃষক সংগঠনের সভাপতি জীতেন্দ্রনাথ সূত্রধর, সচেতন নাগরিক সমাজ তানোরের প্রতিনিধি আলমাস আলী, প্রবীণ মৎস্যজীবী হুজুর আলী সহ অনেকে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বিলজোয়ানা মৌজায় অবস্থিত হলেও স্থানীয়ভাবে অধিক পরিচিত বিলকুমারী তানোর উপজেলার ১.৬৫ একর আয়তনের এই জলাভূমিটি বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বনশাখা ২ কর্তৃক দেশের প্রথম জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রুক্ষ বরেন্দ্র অঞ্চলে অবস্থিত এই বিলটি এক সময় প্রাণবৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে পানি দূষণ, অবৈধ দখল, বাণিজ্যিক কৃষি সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, অপরিকল্পিত মাছ চাষ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই বিলের জলজ বাস্তুতন্ত্র মারাত্বক হুমকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, বিলকুমারী ও বিলজোয়ানা শুধু মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল নয়; বরং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা (মাছ ধরা, সেচ) এবং আঞ্চলিক পরিবেশ ও আবহাওয়ার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বিলগুলো শীতকালে পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিলকুমারী ও বিলজোয়ানার অবৈধ দখল ও ভরাটের ফলে বিলের আয়তন কমে যাচ্ছে। আশপাশের কৃষিজমি থেকে কীটনাশক ও সার এসে পানির গুণাগুণ নষ্ট করছে, ফলে দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর প্রাকৃতিক প্রজনন ধ্বংস হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই সংকটকে আরও তীব্র করছে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও নাঈমা খান বলেন, “বিলের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী। আমরা দুয়ারি জাল বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব এবং জনগণকে সচেতন করতে কাজ করব।”
শেষে বিলকুমারী ও বিলজোয়ানার প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় গ্রিন কোয়ালিশন তানোর উপজেলার সভাপতি ও স্বশিক্ষিত কৃষি বিজ্ঞানী নূর মোহাম্মদ পাঁচটি দাবী তুলে ধরেন। এ-সময় তিনি বলেন, “এই সংলাপে উত্থাপিত চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে বিলগুলোর পরিবেশগত ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।#

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,

বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ

  ©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪

Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!