1. admin@rajshahitribune24.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল তরুণদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে: রাসিক প্রশাসক নদী-পরিবেশ রক্ষায় তানোরে বাপার উপজেলা কমিটি গঠন তানোরে জামায়াতের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস পালন পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবীতে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ বাগমারার পরিত্যক্ত গাওড়া বিল পরিষ্কারের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানের আশা তানোরে আইনশৃঙ্খলাসহ ছয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে তরুণদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিজিবি অর্কিড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এরফান আলীর মৃত্যু তারেক রহমানের আগমন ঘিরে তানোরে মিজানের নেতৃত্বে র‍্যালি তাজকিয়াতুল উম্মাহ মহিলা মাদ্রাসায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

তানোর ইউএনওর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের প্রতিবাদ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮৭ বার পঠিত

প্রতিবাদলিপি : রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক নাঈমা খানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের অভিযোগ ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ‘রাজশাহীতে ঘুষের জন্য সেবাগ্রহীতাকে হয়রানি’ কিংবা ‘দুই কোটি টাকা লোপাটের তীর ইউএনও নাঈমা খানের দিকে’—এ ধরনের শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট নিয়ে তানোরের সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তা এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দোষী হিসেবে প্রতীয়মান হন, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ অনুসন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তানোরের সচেতন নাগরিকদের দাবি, ইউএনও নাঈমা খান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থ, তদবির কিংবা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ খুঁজে আসা একটি শ্রেণি তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে থাকতে পারে। তাদের কেউ কেউ নিজেদের প্রত্যাশিত সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এখন বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে রয়েছে।
বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছে। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় এ কার্যক্রমের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলেছে। তানোরেও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের তদবির ও পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা ছিল বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, একটি শ্রেণির ব্যক্তি ওই দুই পদে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ইউএনওর কাছে বিভিন্নভাবে তদবির ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রত্যাশিতভাবে সেই তদবিরের ফয়দা না হওয়ায় তাদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু করে। ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে; তবে ইউএনও নাঈমা খান নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নীতিমালা অনুসরণের কথা জানিয়েছেন।
এমনকি ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিচয় ও মূল্যায়নের দাবি নিয়ে রাজশাহীতে প্রকাশ্য আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে তানোর ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় তানোরের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—কোনো সরকারি নিয়োগ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নিয়মনীতি অনুসরণ করা হলে এবং ব্যক্তিগত তদবিরে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া না গেলে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ, গুজব ও অপপ্রচার চালানো কি গ্রহণযোগ্য?
সচেতন মহলের আরও অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা বিভিন্নভাবে স্বার্থসম্পৃক্ত কিছু মহলও বর্তমান প্রশাসনের স্বাভাবিক ও নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টায় বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় জড়িত থাকতে পারেন। অতীতের প্রভাব ও সুবিধা ধরে রাখার চেষ্টা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক সুবিধা আদায়ের সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে—এমন অভিমতও রয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের।
তবে আমরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রমাণ ছাড়া অভিযুক্ত করতে চাই না। বরং যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর প্রকৃত সত্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক—এটাই আমাদের দাবি। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ব্যক্তিগত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষোভ থেকে সৃষ্ট হলে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে সম্প্রতি ভূমি-সংক্রান্ত সেবায় ঘুষ দাবি এবং ‘দুই কোটি টাকা লোপাট’-সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না মিললে একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার বন্ধ হওয়াও জরুরি।
তানোরবাসী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকারকে সম্মান করে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্থ যাচাই-বাছাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে মনগড়া তথ্য প্রচার করা নয়। সাংবাদিকতার মূলনীতি অনুযায়ী অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা এবং অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একইভাবে যাচাইহীন তথ্য, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট শেয়ার করে একজন সরকারি কর্মকর্তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার ভালো-মন্দের বিচার হবে তাঁর কাজ, সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে—গুজব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের ভিত্তিতে নয়।
তানোরের সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক নাঈমা খানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

—তানোরের সচেতন নাগরিকবৃন্দ

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,

বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ

  ©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪

Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!