1. admin@rajshahitribune24.com : admin :
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

তানোরে ভোক্তার পকেট কাটছেন এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : রাজশাহীর তানোর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভাজুড়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কৃত্রিম সংকট ও মূল্য কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। টানা তিন দিন খুচরা বাজারে সিলিন্ডার উধাও থাকার পর ২ এপ্রিল সরকার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিলে হঠাৎ করেই বাজারে সিলিন্ডার ফিরে আসে। তবে তখনই খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায়, যা আগে ছিল আনুমানিক ১৩০০–১৪০০ টাকার মধ্যে।
একই সময়ে জ্বালানি তেলের সংকটও তানোরে ভোগান্তি বাড়িয়েছে। উপজেলার চারটি পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দিয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়ছে গ্যাসসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহে।

স্থানীয়রা জানান, ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে অনিয়ম এবং দামের ওঠানামার কারণে বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় গৃহিণী শাকিলা শারমিন বলেন, “তিন দিন ধরে গ্যাস পাইনি, অনেক কষ্টে রান্না করেছি। এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু দাম অনেক বেশি—এভাবে সংসার চালানো কঠিন।”
এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা বলেন, “জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে, সরবরাহেও সমস্যা হয়েছে। নতুন দামে গ্যাস আসায় এখন বিক্রি শুরু হয়েছে।”
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) তানোর শাখার সেক্রেটারি ও গণমাধ্যমকর্মী মিজানুর রহমান বলেন, “জ্বালানি তেলের পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে গ্যাস সিলিন্ডারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত মুনাফা লুটার অপচেষ্টা।”
রাজশাহী জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও এপিপি (অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট রায়হান কবির বলেন, “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কোনো পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি বা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অপরাধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম সংশ্লিষ্ট আইনেও জ্বালানি পণ্যে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা খান বলেন, “জ্বালানি তেল ও গ্যাস—দুই ক্ষেত্রেই বাজার মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রি বা মজুতদারির অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের বাজারে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না হলে কৃত্রিম সংকট ও মূল্য কারসাজি বন্ধ করা কঠিন হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।#

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,

বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ

  ©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪

Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!