
নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর : রাজশাহীর তানোর থানায় দায়ের করা একটি ক্লুলেস চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তানোর উপজেলার পারিশো পাকাসড়ক থেকে ফটিক হাসান (২৮) নামে এক যুবকের লাল-কালো রঙের টিভিএস রাইডার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল (রেজি. নং: নওগাঁ-হ-১৮-২৫১১) এবং তার ব্যাগে থাকা একটি OPPO F21 Pro মোবাইল ফোন চুরি হয়। চুরি হওয়া মোটরসাইকেলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোনটির মূল্য প্রায় ২৮ হাজার টাকা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তানোর থানায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি শুরুতে সম্পূর্ণ ক্লুলেস ছিল। অর্থাৎ ঘটনার কোনো সূত্র বা সন্দেহভাজন ছিল না।
মামলা দায়েরের পর রাজশাহী পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স), সহকারী পুলিশ সুপার (গোদাগাড়ী সার্কেল) এবং তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাসমত আলী রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন আলীগঞ্জ নিচু বাজার এলাকা থেকে রাব্বি হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
এরপর গ্রেপ্তারকৃত রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকা মোহাম্মদ মিলনকে (৪১) আদালতের আদেশে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন গুড়িপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাশ থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, “ক্লুলেস এই মামলার রহস্য উদঘাটনে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) তানোর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মী মিজানুর রহমান বলেন, “ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন এবং দ্রুত চোরাই মালামাল উদ্ধার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এতে জনসাধারণের আস্থা বাড়ে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়।”
উল্লেখ্য, এর আগে তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা এলাকায় সংঘটিত আরেকটি ক্লুলেস মামলার রহস্যও সম্প্রতি উদঘাটন করে পুলিশ। ধারাবাহিকভাবে একাধিক ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনে তানোর থানা পুলিশের তৎপরতা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।#
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ
©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪