
ডেস্ক রিপোর্ট : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিস্মৃত হওয়া মানে জাতির অস্তিত্বের শেকড়কেই উপড়ে ফেলা। তিনি বলেন, যে জাতি নিজের শেকড় ও ইতিহাস ভুলে যায়, তাদের পক্ষে উন্নতির শিখরে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে জানান, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের ত্যাগ, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি ধারণ করা যায়নি।
মঙ্গলবার (০৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শহীদ সাগর চত্বরে আয়োজিত গণহত্যা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি করতে। ১৯৭১ সালে যারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রত্যেকেরই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাওয়ার অধিকার আছে। যারা দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের সম্মানিত করতে হলে তাদের পরিবারকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। শুধু ৫ই মে না, আমরা তাদের সারা বছর মনে করতে চাই। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ, লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু প্রমুখ।
ক্তারা সবাই ৫ মে’র শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
৫ মে’র সেই নৃশংস ইতিহাস :
১৯৭১ সালের ৫ই মে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকাররা এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়। তারা জরুরি মিটিংয়ের মিথ্যা কথা বলে শ্রমিক-কর্মচারীদের চিনিকলের ১ নম্বর ফটকে জড়ো করে। এরপর তাদের অস্ত্রের মুখে পুকুরপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মিলের তৎকালীন প্রশাসক জিএম লেফট্যানেন্ট আনোয়ারুল আজিমসহ প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বার্স্ট ফায়ার এবং বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর ওই পুকুরটির নামকরণ করা হয় ‘শহীদ সাগর’ এবং শহীদ আনোয়ারুল আজিমের সম্মানে গোপালপুর রেলস্টেশনটির নাম রাখা হয় ‘আজিমনগর’। সেই থেকে প্রতি বছর এই দিনটিকে এখানে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
সূত্র : বাংলা নিউজ২৪।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক : সৈয়দ মাহমুদ
©স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪