1. admin@rajshahitribune24.com : admin :
  2. rajshahitribune192@gmail.com : editor man : editor man
ফেরেনি সুদিন, কাটেনি আতঙ্ক - Rajshahi Tribune24 | রাজশাহী ট্রিবিউন২৪
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

ফেরেনি সুদিন, কাটেনি আতঙ্ক

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩
  • ১৩৯ বার পঠিত

তানোর বার্তা ডেস্ক : সময়ের পরিক্রমায় দেশের শেয়ারবাজারের কলেবর বেড়েছে। বাজারে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান। সেইসঙ্গে এসেছে নতুন পণ্য। তারপরও শেয়ারবাজারের হারানো সুদিন ফিরে আসেনি। বরং দিন যত যাচ্ছে বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের আতঙ্ক ততো বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা ভুগছেন পুঁজি হারানোর আতঙ্কে। ব্রোকারেজ হাউজের কর্মীরা ভুগছেন ছাঁটাই আতঙ্কে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সব থেকে ভালো সময় কেটেছে ২০০৯ ও ২০১০ সালে। ২০১০ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন হতো। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয় ছিল বেশ। বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিতে জমজমাট থাকতো প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউজ।
কিন্তু ২০১০ সালের মহাধসের পর শেয়ারবাজারে লেনদেনে ভাটা পড়ে। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কয়েক মাস ধরে শেয়ারবাজারে যে লেনদেন হচ্ছে তা দিয়ে ব্রোকারেজ হাউজের খরচের টাকাই ঠিকমতো উঠছে না। অনেক ব্রোকারেজ হাউজ মালিককে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
ব্রোকারেজ হাউজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক এক ব্রোকারেজ হাউজের খরচ এক এক রকম। বড় হাউজের খরচ বেশি। ছোট হাউজের খরচ তুলনামূলক কম। আর ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয়ের একমাত্র উৎস লেনদেন থেকে পাওয়া কমিশন। সেক্ষেত্রে বড় একটি হাউজের খরচের টাকা তুলতে কমপক্ষে একশ’ কোটি টাকার লেনদেন হওয়া উচিত। কিছু হাউজে ১০-১৫ কোটি টাকা লেনদেন হলেও খরচের টাকা উঠে আসে।
তাদের অভিমত, সার্বিক বাজারে যদি লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকার ওপর থাকে, তাহলে অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ ব্রেক ইভেন্ট পয়েন্টে থাকতে পারে। এর নিচে লেনদেন হলে অধিকাংশেরই লোকসান গুনতে হয়। মাঝে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও গত বছরের নভেম্বরের পর আর হাজার কোটি টাকার লেনদেনের দেখা মেলেনি। কয়েক মাস ধরে যে লেনদেন হচ্ছে, তাতে প্রায় প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউজকেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জনা গেছে, ২০০৯-২০১০ সালে শেয়ারবাজার রমরমা হয়ে ওঠায় ব্রোকারেজ হাউজগুলো তাদের কর্মী এবং শাখার সংখ্যা বাড়ায়। কিন্তু ২০১০ সালের ধসের পর দীর্ঘদিন শেয়ারবাজারে মন্দা থাকায় এবং ২০২০ সালে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ প্রকট হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২০ সালের শেষ দিকে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। লেনদেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচকের পালে হাওয়া লাগে। দীর্ঘদিন পর লাভের মুখ দেখতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্রোকারেজ হউজগুলোও তাদের শাখা বাড়ায়।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডিএসইর ট্রেকহোল্ডারদের প্রধান কার্যালয় ২৮৭টি, যা ২০২০ সালে ছিল ২৪২টি। এর সঙ্গে বর্তমানে এক্সটেনশন অফিস আছে ৪৯৫টি, যা ২০২০ সালে ছিল ৪২৫টি। শাখা অফিস আছে ৬৭৭টি, যা ২০২০ সালে ৬২৯টি। অর্থাৎ গত তিন বছরে ট্রেকহোল্ডারদের প্রধান কার্যালয়, এক্সটেনশন অফিস এবং শাখা অফিসের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল বুথ। বর্তমানে ডিজিটাল বুথ আছে ১৬৬টি।
ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান বা ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে কী পরিমাণ কর্মী আছে তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে কর্মীর সংখ্যা ১২-১৫ হাজারের মতো হতে পারে। এই সংখ্যা ২০১০ সালের তুলনায় কম। ২০১০ সালের দিকে ব্রোকারেজ হাউজেগুলোতে ১৮-২০ হাজার কর্মী ছিল।
এদিকে এক্সটেনশন ও শাখা অফিসের সংখ্যা বাড়লেও ভালো নেই ব্রোকারেজ হাউজের কর্মীরা। একটি হাউজের ট্রেডিংয়ের দায়িত্ব পালন করা শুভ নামের একজন বলেন, ব্রোকারেজ হাউজের কর্মীদের ভালো থাকা নির্ভর করে বাজারের লেনদেনের ওপর। লেনদেন ভালো হলে ব্রোকারেজ হাউজের আয় ভালো হয়। তখন মালিক ভালো থাকে, কর্মীরাও ভালো থাকে।
তিনি বলেন, মাঝে শেয়ারবাজার ভালো হওয়ার আভা পাওয়া গিয়ে ছিল। লেনদেন বেড়ে দুই হাজার কোটি টাকা হয়ে যায়। তখন বাজারে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী এসেছে। এক বছরের বেশ সময় ধরে বাজারে মন্দা চলছে। ব্রোকারেজ হাউজের আয় কমে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আতঙ্কে আছি। এর আগে ২০১০ সালের ধসের পর এবং মহামারি করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর দু’দফায় কর্মী ছাঁটাই দেখেছি। বাজার এখন যেভাবে চলছে, এভাবে চললে যেকোনো সময় আবার ছাঁটাই হতে পারে।
শাকিল রিজভী সিকিউরিটিজের এক কর্মী বলেন, কয়েক মাস ধরে বাজারের যে চিত্র তাতে বিনিয়োগকারী, ব্রোকারেজ হাউজ সংশ্লিষ্ট কেউ ভালো নেই। বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। আর আমরা চাকরি নিয়ে আতঙ্ক আছি। কয়েক মাস ধরে যে লেনদেন হচ্ছে, তাতে অফিসের খরচের টাকাই আসছে না। এরপরও আমাদের কারও বেতন আটকায়নি। কিন্তু মালিক এভাবে কতোদিন লোকসান দেবে? যদিও মালিকপক্ষ কিছু বলছে না, তারপরও কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও জাগো নিউজকে বলেন, কর্মীদের আতঙ্কে ভোগাটাই স্বাভাবিক। লেনদেনের কমিশন ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয়ের একমাত্র উৎস। লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমছে। লেনদেন না হলে ব্রোকারেজ হাউজ টিকবে কীভাবে। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজগুলোর খরচ অনেক বাড়ছে। ব্রোকারেজ হাউজের লাইসেন্স নবায়নসহ বিভিন্ন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অবস্থা খারাপ এটা স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, মাঝে কিছু শাখা বেড়েছে, এর কারণ বর্তমান কমিশন আসার পর সবাই একটু আশাবাদী হয়েছিল। লেনদেন ৫-১০ হাজার কোটি টাকা হয়ে যাবে এমন আশার কথা আমরা শুনেছি। বিদেশি অনেকগুলো রোড শো হয়েছে। সবকিছু মিলে ব্রোকাররা আশা করছিল হয়তো বাজারের আকার বড় হবে, ট্রেডিং বেশি হবে। এ কারণে শাখা অফিস করেছে। এখন আবার দেখছে অবস্থা ভালো না। শুনছি অনেকে এক্সটেনশন ও শাখা অফিস কমিয়ে ফেলার চিন্তাভাবনা করছে।
তিনি আরও বলেন, সামনে ঈদ আসছে। এই ঈদে কর্মীদের বেতন-বোনাস কীভাবে দেবো তা আমরা নিজেরাই জানি না। খুবই খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। কর্মীরা নিজেরাই দেখছে, ব্যবসা হচ্ছে না।
বেশিরভাগ ব্রোকারেজ হাউজ ব্রেক ইভেন্ট পয়েন্টে থাকতে হলে প্রতিদিন শেয়ারবাজারে কী পরিমাণ লেনদেন হওয়া উচিত? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এক এক ব্রোকারেজ হাউজের খরচ একেক রকম। যে হাউজ যতবড় তার খরচ ততো বেশি। কোনো কোনো হাউজে ১০-১২ কোটি টাকা লেনদেন হলেই ব্রেক ইভেন্ট পয়েন্টে চলে আসে। আবার বড় ব্রোকারেজ হাউজের ব্রেক ইভেন্ট পয়েন্টে যেতে একশ’ কোটি টাকার লেনদেন লাগে। তবে আমার ধারণা সার্বিক বাজারে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হলে অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ ভালো থাকে। এর নিচে লেনদেন হলে মনে হয় না কোনো ব্রোকারেজ হাউজ ভালো অবস্থানে থাকে।

বেড়েছে বাজারের কলেবর

শেয়ারবাজারে মন্দা চললেও সম্প্রতি নতুন নতুন পণ্য এসেছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে চলতি বছর চালু হয়েছে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি)। এর আগে ২০২১ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ করে দিতে চালু করা হয় এসএমই প্ল্যাটফর্ম। গত বছর বাজারে নিয়ে আসা হয় ২৫০টি ট্রেজারি বন্ড। এতে বাজার মূলধনে বড় উত্থান হলেও, লেনদেনের গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারেনি। অথচ এসব ট্রেজারি বন্ড লেনদেনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল লেনদেনের গতি বাড়ানো।

লেনদেন তলানিতে

গত বছরের ১১ নভেম্বর ডিএসইতে ১ হাজার ১৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এরপর বাজারটিতে আর হাজার কোটি টাকার লেনদেনের দেখা মেলেনি। বরং গত কয়েক মাস বেশিরভাগ সময় লেনদেন হয়েছে পাঁচশ’ কোটি টাকার কম। এর মধ্যে শেষ ২৪ কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচশ’ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে মাত্র ছয়দিন।

সূচক

২০২১ সালের ১০ অক্টোবর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ছিল ৭ হাজার ৩৬৭ পয়েন্ট। এক বছরের বেশি সময় ধরে বাজার মন্দার মধ্যে পতিত হওয়ায় সূচকটি কমে এখন (১৯ মার্চ) ৬ হাজার ২০৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর ছিল ২ হাজার ৭৮৭ পয়েন্ট। সেটি এখন ২ হাজার ২১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূত্র : জাগোনিউজ২৪.কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © 2022 রাজশাহী ট্রিবিউন ২৪
Theme Customized By Shakil IT Park
error: Content is protected !!