ডেস্ক রিপোর্ট : কিছুদিন আগেও যে সবজির দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে ছিল, সেই সবজি এখন ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। টমেটো, বরবটি, বেগুন, কাঁকরোল, পটল- প্রায় সবকটি সবজিই শতকের ঘর ছুঁয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম বাড়লেও কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে ডিমের মূল্য। তবে সাপ্লাই চেইনে ঘাটতি হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়ে ব্যবসা ছেড়েছে। যারা বর্তমানে টিকে আছে, তারা বেশি লাভ করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। এর সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে আদা। এ পণ্যটির দামও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাজীর দেউড়ি, দুই নম্বর গেইট কাঁচা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজি বিক্রেতারা প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০, বরবটি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০, পটল ৮০ থেকে ১০০, মুলা ৯০ থেকে ১০০, ফুলকপি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০, শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কচুর মুখি ৮০, পেপে ৬০, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৭০ টাকা করে বিক্রি করছেন। এছাড়া প্রতি আঁটি লাল শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, ডাটা ৪০ টাকা ও প্রতিহালি কাঁচকলা ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। বাজারে এক হালি লেবু ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাত্র এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে সবজির দাম দ্বিগুণ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চাষিদের কাছ থেকে স্বাভাবিক দামে পাইকারি সবজি কিনে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছামতো ক্রেতাদের কাছ থেকে খুচরা দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন।বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টিতে সারাদেশে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই দাম বাড়ছে। বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই। বেশি দামে সবজি ক্রয় করে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
নগরের বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারে সবজি কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক রমিচ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, হঠাৎ করেই বেড়েছে প্রায় সবকটি সবজির দাম। দেখার যেন কেউ নেই। আগে ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতো। এখন চোখে দেখি না। যার কারণে বাজারে আবারও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। যে বেগুন কিছুদিন আগে ৬০ টাকায় কিনেছি, সেটির দাম আজ বলছে ১০০ টাকা। কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, পটল সব সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে। কিভাবে সবজি কিনবো? সবজি কিনে অন্য বাজার করতে হিমশিম খেতে হবে।
বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। গত মাসে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর দেশি মুরগি সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।
বাজারে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২৫০ টাকা এবং রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায, বড় কাতাল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর ভুঁড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারে অস্থিরতা
খামার থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত প্রতি পিস ডিমের দামে তৈরি হয়েছে ব্যবধান। গত কয়েক মাস আগে যে ডিম খামারিরা বিক্রি করতো সাড়ে ৭ থেকে ৮ টাকায়, সেই ডিম এখন বিক্রি করছে ১০ টাকা ৭০ পয়সায়। ডজনপ্রতি ডিমের দাম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা থেকে লাফিয়ে ১৫০ টাকায় ঠেকেছে। কোনো কোনো এলাকায় তা ১৫৫ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সূত্র : বাংলা নিউজ২৪