নিজস্ব প্রতিবেদক: নিউরন নার্সিং কোচিং’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই বা কাছাকাছি নাম ব্যবহার করায় শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাইফুল ইসলাম। এ নিয়ে ২০২৩ সালে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মামলাটি চলমান থাকার মধ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাইফুল ইসলাম।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন সাইফুল ইসলাম। তাঁর দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কেউ কেউ ‘নিউরন’ নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০০৭ সাল থেকে তিনি ‘নিউরন নার্সিং কোচিং’ পরিচালনা করছেন। বর্তমানে সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির ৬০টির বেশি শাখা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে গিয়ে নামটির পরিচিতি তৈরি হয়েছে। এরপর অন্যরা একই বা কাছাকাছি নাম ব্যবহার করে নার্সিং কোচিং পরিচালনা শুরু করেন। এ কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নাম ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধন করেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের পরও কয়েকজন সরাসরি ‘নিউরন’ নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলায় প্রথমে তাঁর পক্ষে রায় হলেও বিবাদীপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। পরে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।
সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন। ওই আদেশে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত বিবাদীদের তাঁর তফসিলভুক্ত নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক ‘নিউরন নার্সিং কোচিং’ অবৈধভাবে ব্যবহার ও লঙ্ঘন করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে আদালতের আদেশটি পূর্ণাঙ্গ রায় নয় উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম বলেন, শুনানির পর আদালত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারেন অথবা বহাল রাখতে পারেন। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তির বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ভর্তি কার্যক্রমের সময় অনেক শিক্ষার্থী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, কোনটি ‘অরিজিনাল নিউরন’। তাঁর দাবি, কিছু শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পরে বিভ্রান্তির বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁর প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, যেসব ছেলেমেয়ে কোনো কারণে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে বা সহযোগিতা প্রয়োজন মনে করছে, মানবিক কারণে অবশ্যই আমি তাদের সহযোগিতা করব। তাদের নিরাশ বা হতাশ হতে দেব না।
রাজশাহীসহ সারা দেশে একই বা কাছাকাছি নাম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁর মামলায় শুরুতে অল্প কয়েকজন বিবাদী ছিলেন। তবে বর্তমানে সারা দেশে তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম নকল বা ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন করে শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আদালতের আদেশ অমান্য করে কেউ কার্যক্রম চালালে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিজে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন না। বরং আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের প্রমাণ আদালতের কাছে তুলে দেবেন। এরপর আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
রাজনীতির সঙ্গে তাঁর আগের সম্পৃক্ততার কারণে বর্তমান বিরোধ তৈরি হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিষয়টির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় মেলাতে চান না। বর্তমানে তিনি কোনো কিছুর সঙ্গে যুক্ত নন বলেও দাবি করেন।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, নার্সিং পেশায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা এবং তাঁদের দক্ষ করে গড়ে তোলাই তাঁর প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২টির বেশি জেলায় ‘নিউরন’-এর শাখা রয়েছে।