রাজশাহী প্রতিবেদক: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার ও দলকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পুঠিয়া ল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে গত সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে কাজ করার দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে আলোচনা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুঠিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।
পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আবু হায়াতের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার মন্ডল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনসুর রহমান মাস্টার, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি একরামুল ইসলাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক সোহেল রানা, খলিলুর রহমান ও অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাকিবের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুঠিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আসাদুল হক আসাদ, রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান ভুট্ট, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রিপন রেজা, সদস্যসচিব মাহাবুর রহমান এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ওয়াসিম আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সংসদ নির্বাচনে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক ও সদস্যসচিব এন্তাজুল হক বাবু দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ ও সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকারকে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে শোকজ করা হয়নি। উল্টো গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সক্রিয় দুই নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে অন্যায় উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তাঁরা।
সভায় বক্তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দুই নেতাকে শোকজ করার কারণ খতিয়ে দেখা এবং দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।